গতরাত সাড়ে ১১টার দিকে এক নারী শিক্ষার্থী মেসে ফেরার সময় প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পেরে বারবার ধাক্কা দেন। এ সময় সহপাঠীরা গার্ডকে গেট খোলার অনুরোধ করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে গেট খুললেও শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় গার্ড পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানীয়রা গার্ডের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়।
চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. টিপু সুলতান ভোরে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় শতাধিক আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একইদিনে আহত হতে আমি আগে দেখিনি।"
সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরিয়াল বডির দুই সদস্যও আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গেট-২ এলাকায় অবস্থান নেন এবং নিকটস্থ কয়েকটি ছাত্রাবাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। সেনা সদস্য মেজর শাহরিয়ার বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কেবল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছি। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর হায়দার বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সেনা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। দায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।"
পরীক্ষা স্থগিত
ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজকের সব বিভাগীয় পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। চবি ভাইস-প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন জানান, "অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।"