শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

বাঘায় নকল ফুড সাপ্লিমেন্টের কারখানায় অভিযান, দেড় কোটি টাকার পণ্য জব্দ; দুই ট্রাক মালামাল মাঠেই পোড়ানো

রাজশাহীর বাঘার তেঁথুলিয়া মাঠে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরির কারখানা সিলগালা করে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাঠে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য পরিপূরক) তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই ট্রাক মালামাল মাঠেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান। সঙ্গে ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল এবং বাঘা থানা-পুলিশ। কারখানা খুলে ভেতরে বিপুল পরিমাণ কার্টন, তৈরি পণ্য ও পণ্য তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। কিছু বোতলের গায়ে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত লেখা, কোনোটিতে জাপানি কোম্পানির নাম, আবার কোনোটির সিরিয়ালে যুক্তরাষ্ট্রের নাম দেওয়া ছিল। আরও তিন ট্রাক মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

নুসরাত জাহান জানান, মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা নিয়মিত মামলা করা যায় কি না, তা দেখছেন। মেহেদী আফজাল বলেন, মোড়ক বা কৌটার গায়ে সরাসরি ‘ওষুধ’ লেখা না থাকায় মামলা করতে সমস্যা হচ্ছে; তবে অনুমোদন না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এরা মস্ত বড় প্রতারক।” তিনি জানান, এসব পণ্যের দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা, আর মূলত অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে পাঠানো হতো। কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে। ট্যাবলেট তৈরির একটি ভারী যন্ত্র সরানো না গেলেও সেটি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।

আগের দিনের অভিযান

সহকারী কমিশনার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানী থানা-পুলিশ ওই থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্রে এসে তাঁর নেতৃত্বে কারখানায় অভিযান চালায় এবং ১১ জনকে আটক করে। বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, জুলাই মাসের একটি মামলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক বাকি নয়জনের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিক আদায় হয়। কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।

ভাড়া নেওয়া বাড়ি

স্থানীয়রা জানান, আধাপাকা কারখানাটি সব সময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখা যেত। বাড়ির মালিক হায়দার আলী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাঁর মা ও ভাই জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের রেজাউল করিম মাসিক আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নেন। তাঁরা দাবি করেছেন, ভেতরে কী কাজ হতো তা তাঁরা জানতেন না। রেজাউল ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি জমা রেখেছিলেন, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত ছিল বলে জানান বাড়ির মালিকের পরিবার। রেজাউলের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।