রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কৃষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী প্রথমে গোদাগাড়ীর হাটপাড়া এলাকায় পন্টুনের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পাম্পে পানি তোলার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে সরমংলা খাল পরিদর্শন করে কৃষক ও বিএমডিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণে অংশ নেন। কলিপুর-৩ এলাকায় তিনি সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দেখেন, যেখানে সেচের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়।
মতবিনিময়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সেচে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়ে আসছে; কিন্তু বিশ্বজুড়েই এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, কৃষিতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। পদ্মা থেকে পানি এনে কৃষিকাজে ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পের প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন মন্ত্রী। বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, আর নদীর পানির সঙ্গে আসা পলি জমির উর্বরতা বাড়াবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সৌরবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বিএমডিএর আওতাধীন প্রায় ১৭ হাজার গভীর নলকূপকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। সেচের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া গেলে বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান সভায় সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ীতে ১১৮ কিলোমিটার খাল ও খাড়ি এবং ৪৬২টি পুকুর পুনঃখনন করা হয়েছে, নির্মাণ করা হয়েছে ৪১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। কৃষক প্রশিক্ষণ ও সেচ কার্যক্রমে ৭৬ হাজার ৩৪৫ কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সরমংলা খালের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পদ্মা থেকে পানি তুলতে দুটি পাম্প বসানো হয়েছে। কলিপুর-৩ সোলার সেচ প্রকল্পে ৪৫টি সৌর প্যানেলে ১৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার পাম্প চলছে, যা ২৬৪ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে ৭৪ জন কৃষককে সুবিধা দিচ্ছে।