আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ পুরনো ধাঁচের এবং এতে ব্যয়, সহিংসতা ও কালো টাকার রাজনীতি উৎসাহিত হবে।
সমাবেশ ও ব্যয়ের সমালোচনা
ফুয়াদ বলেন, “আজকের যুগে যখন ইউটিউব, ফেসবুক, মোবাইল ফোন আছে, তখনও ৬০–এর দশকের মতো হাজার হাজার মানুষ জড়ো করে সমাবেশ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, সহিংসতা তৈরি হচ্ছে।”
তিনি মনে করেন, সমাবেশের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের উদ্যোগে কমন ইশতেহার সভা আয়োজন করা উচিত, যেখানে সব প্রার্থী অংশ নেবেন। এতে ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি সংঘর্ষের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
পোস্টার–ব্যানার ও পরিবেশের ক্ষতি
এবি পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, “প্রতিটি আসনে আলাদা আলাদা পোস্টার, ব্যানার ছাপাতে বিপুল টাকা খরচ হয়। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। অথচ কমিশন চাইলে সবার জন্য একটি কমন পোস্টার ও লিফলেট ছাপাতে পারে।”
ভোটের দিনের খরচ
সবচেয়ে বড় ব্যয় হয় ভোটের দিন—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রতিটি বুথে একাধিক এজেন্ট রাখতে হয়। শুধু ওই দিনেই প্রার্থীর ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা খরচ হয়। অথচ এই কাজ মূলত রাষ্ট্রের।”
তাঁর প্রস্তাব, রাষ্ট্র যদি পোলিং এজেন্টদের ভাতা বহন করে, তবে সহিংসতা ও কালো টাকার ব্যবহার অনেকটাই কমবে।
রোডম্যাপের সীমাবদ্ধতা
ফুয়াদ প্রশ্ন তোলেন, “রাষ্ট্র যখন নিজে কোনো ব্যয় বহন করছে না, অথচ প্রার্থীদের ওপর ব্যয়ের সীমা চাপিয়ে দিচ্ছে, তখন হলফনামায় সত্যি কথা লেখা সম্ভব কি?”
তিনি আরও বলেন, “কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ আসলে পুরনো প্রথা চালিয়ে যাওয়ার নামান্তর। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু কিন্তু একতরফা নির্বাচনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।”
একতরফা নির্বাচনের আশঙ্কা
এবি পার্টির মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু কিন্তু একতরফা নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এটি ১৯৭৩ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো আলোচিত হয়ে উঠতে পারে।”
বিকল্প প্রস্তাব
তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবও তুলে ধরেন—
সমাবেশের পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কমন ইশতেহার সভা
সকল প্রার্থীর জন্য কমন পোস্টার–লিফলেট
ব্যয় সাশ্রয়ী মোবাইল ভোটকেন্দ্র
বুথভিত্তিক সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা
ফুয়াদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপে গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নেই। রাষ্ট্র যদি নির্বাচনী ব্যয় বহন করে এবং স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করে, তবে নির্বাচন সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক হতে পারে।”