গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় গুরুতর আহত শ্রমিক তৌফিক মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৌফিক ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত তবি খাঁর ছেলে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের মির্জাপুর মাস্টারবাড়ী এলাকার একটি পোশাক কারখানায় লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তৌফিক। অভাবের কারণে লেখাপড়া ছেড়ে তিনি জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরে যান এবং একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তৌফিক। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
হামলাকারীরা কারা এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে এবং এর মধ্যে কয়েক জায়গায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।