← Back

বিজ্ঞান অবশেষে সমাধান দিল: মুরগিই আগে এসেছে, তারপর ডিম!

শতাব্দীর পুরোনো ধাঁধার জবাব দিল গবেষকরা—ডিমের খোল তৈরি হয় মুরগির বিশেষ প্রোটিনের মাধ্যমে

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
মুরগিই আগে এসেছে, তারপর ডিম
ছবিঃ মুরগিই আগে এসেছে, তারপর ডিম
“আগে এসেছে মুরগি না ডিম?”—এই চিরন্তন ধাঁধা নিয়ে যুগ যুগ ধরে বিতর্ক চলেছে। তবে বিজ্ঞানীরা অবশেষে একে ঘিরে পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন: আগে এসেছে মুরগি। কারণ, মুরগির শরীরেই উৎপাদিত এক বিশেষ প্রোটিন ছাড়া ডিমের খোল গঠিত হতে পারে না।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে ভাবিয়েছে প্রশ্নটি—মুরগি আগে নাকি ডিম? দার্শনিক, কবি, বিজ্ঞানী—সবারই মতামত ছিল ভিন্ন। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবার যুক্তি ও প্রমাণ হাজির করেছে।

২০১০ সালে প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে (Freeman, Harding, Quigley, Rodger. Structural Control of Crystal Nuclei by an Eggshell Protein. Angewandte Chemie International Edition) বলা হয়, মুরগির ডিমের খোল তৈরির জন্য অত্যাবশ্যক একটি প্রোটিন পাওয়া গেছে, যার নাম Ovocleidin-17 (OC-17)

এই প্রোটিন কেবল মুরগির ডিম্বাশয়ে (ovary) পাওয়া যায়। OC-17 ডিমের খোল গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে। এটি ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের স্ফটিকায়ন (crystallization) প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, ফলে ডিমের খোল দ্রুত ও যথেষ্ট শক্তভাবে তৈরি হয়। এই খোলই ভেতরের বাচ্চাকে সুরক্ষা দেয়।

অতএব, বিজ্ঞানীরা যুক্তি দিচ্ছেন—যদি মুরগিই না থাকত, তবে এই প্রোটিন থাকত না; আর প্রোটিন ছাড়া ডিমের খোল তৈরি হত না। তাই প্রথমে এসেছে মুরগি, পরে এসেছে ডিম।

বিবর্তনগত ব্যাখ্যা:
গবেষকরা মনে করেন, বিবর্তনের ধারায় মুরগির কাছাকাছি এক পাখি একটি ডিম পাড়ে। জেনেটিক মিউটেশনের (genetic mutation) মাধ্যমে সেই ডিম থেকে জন্ম নেয় প্রথম প্রকৃত মুরগি, যার শরীরে OC-17 প্রোটিন উৎপন্ন হয়। সেই থেকেই শুরু আধুনিক মুরগির ডিম তৈরির ইতিহাস।

উপসংহার:
যে প্রশ্ন নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ বিতর্ক করেছে, সেটির উত্তর এখন বিজ্ঞানের হাতে। ডিম নয়, আগে এসেছে মুরগি—এবার আর দর্শনের নয়, বরং জীবরসায়নের (biochemistry) যুক্তিতেই প্রমাণিত হলো সেই সত্য।

নামাজের সময়

--:--:--
  • ফজর --:--
  • যোহর --:--
  • আসর --:--
  • মাগরিব --:--
  • এশা --:--
লোড হচ্ছে...

শহর নির্বাচন করুন