রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমির হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম চালু করে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী আরিফুল ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। অভিযুক্ত দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আরিফুলের বাবা আবুল কাশেম ১৯৭৭ সালে আদালতে মামলা করে জমির ডিক্রি পান। পরে গোদাগাড়ী ভূমি অফিসের মাধ্যমে খতিয়ান প্রস্তুত ও অনুমোদন হয়। বাসুদেবপুর ইউনিয়নের নলিগ্রাম মৌজায় ১১টি দাগে ৪ দশমিক ৭৫ একর জমির হোল্ডিং নম্বর ২৪০। আরিফুলের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত এই জমির খাজনা পরিশোধের রসিদও তাঁর কাছে আছে।
তাঁর অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর একটি বিবিধ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১ অক্টোবর যথাযথ নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়েই হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত এবং অনলাইনে খাজনা আদায় বন্ধ করা হয়। পরে হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিনুর রহমান তাঁকে ভূমি অফিসে ডেকে কার্যক্রম চালুর বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন; টাকা দিতে রাজি না হলে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। আরিফুলের আরও বক্তব্য, ২৪৮৬/২০০৯ নম্বর সিভিল রিভিশন মামলার কারণ দেখিয়ে হোল্ডিং স্থগিত করা হলেও ওই মামলার সঙ্গে তাঁর বাবার জমির ডিক্রির সম্পর্ক নেই। তিনি ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিনুর রহমান বলেন, তিনি দুই মাস আগে গোদাগাড়ীতে যোগ দিয়েছেন, আরিফুল ইসলামকে চেনেন না এবং টাকা চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা জমি সরকারি খাসজমি এবং সর্বশেষ আরএস রেকর্ডেও সরকারের নামে রয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা ও আইনি বিরোধ চলমান থাকায় অবৈধ হস্তান্তর ঠেকাতে হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে; এটি বাতিল বা খারিজ করা হয়নি। পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।