রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এই পরিস্থিতি আরও তিন দিন চলতে পারে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কমতে পারে; তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টায় সারা দেশে মোট ২৫৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৯৭ কোটি ঘনফুট। সকাল ১০টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২০৮ কোটি ঘনফুটে, এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ৫১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ দুই ঘণ্টায় সরবরাহ কমেছে ৪৬ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বেলা ২টায় এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৫৪ কোটি ঘনফুট। দুটি ভাসমান টার্মিনাল মিলে সরবরাহ সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট; আগে সরবরাহ হচ্ছিল ৯২ থেকে ৯৭ কোটি ঘনফুট।
গ্যাস খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা।
কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টানা চার দিন দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে খবর ছড়ায়, এতে অনেকে আতঙ্কিত হন। পেট্রোবাংলা মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একটি মহল কিছু গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে ফটোকার্ড বানিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। এর সূত্রপাত গ্যাসের চাপ কমার একটি খবর থেকে: ১ নভেম্বর পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, এলএনজি সরবরাহ কমার কারণে ৪ নভেম্বর থেকে টানা চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকবে।
এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও দেশে গ্যাসের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বেড়েছিল এবং গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যায়নি; রান্না ও পরিবহনেও ভোগান্তি হয়েছিল।