ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া নিজের প্রশাসনের অন্যতম সংকটকালীন মুহূর্ত অতিক্রম করছেন, কারণ ডিজেলের সরকারি ভর্তুকি তুলে নেয়ার পর থেকে কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকদের টানা তিন সপ্তাহের আন্দোলন চরমে ওঠেছে। এসময় সড়ক অবরোধ, ধর্মঘট, এবং নানা স্থানে সংঘর্ষের ফলে অন্তত একজনের মৃত্যু, বহু আহত ও ১০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়। সরকারবিরোধী এবং সমর্থনকারী দুই পক্ষই রাজধানী কুইটোসহ নানান স্থানে রাস্তায় নেমে আসে।
সরকার বিরোধী সবচেয়ে বড় আদিবাসী সংগঠন 'CONAIE' ডিজেল মূল্যবৃদ্ধি এবং ভর্তুকি তুলে নেয়ার প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেয়। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেলের গ্যালন প্রতি দাম $১.৮০ থেকে বাড়িয়ে $২.৮০ করা হয়েছে, যা কৃষি, মৎস্য এবং পরিবহন খাতের জন্য চরম সংকট সৃষ্টি করেছে। CONAIE জানায়, এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দরিদ্র জনগণকে। আন্দোলনের জেরে কুইটোসহ দেশজুড়ে একই সঙ্গে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন হয়েছে, বন্ধ হয়েছে বড় বড় জনসমাগম।
সরকার দাবি করেছে ডিজেল ভর্তুকি বাতিল করে বাজেট ঘাটতি ও পাচার নিয়ন্ত্রণে বছরে এক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কারণে সামাজিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আদিবাসী সংগঠন সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে; বরং সরকারের দেয়া আর্থিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
আন্দোলনে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার মোটরকেডে হামলার অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসন একে হত্যাচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। উত্তরাঞ্চলীয় ইম্বাবুরা প্রদেশে আন্দোলনের আগুন সবচেয়ে বেশি জ্বলছে, যেখানে নোবোয়া সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখতে নোবোয়াকে এখন সংলাপ ও সমঝোতার পথে এগোতে হতে পারে, কারণ জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।