পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ওরকজাই জেলায় একটি গোয়েন্দাসূত্র ভিত্তিক বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের ওই অভিযানে সংঘর্ষের মুখে ঘটনাস্থলে অন্তত ৩০ জন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়। বিপরীতে দেশের দুই কর্মকর্তা—লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুনাইদ আরিফ ও মেজর তৈয়ব রহাতসহ ১১ সেনা সদস্য শাহাদাত বরণ করেন।
জানা যায়, দেশটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জঙ্গিবাদী হামলার সংখ্যা মারাত্মক বেড়েছে। ওরকজাই সীমান্তবর্তী পশতু অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে নিরাপত্তা ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে। অভিযানে অংশগ্রহণকারী বাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সিনিয়র কমান্ডারও রয়েছে। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করছে, সীমান্তবর্তী আফগান ভূখণ্ড থেকে এসব জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চলছে।
অভিযান পরিচালনার সময় দুই পক্ষের তীব্র গোলাগুলির ফলে, নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সেনা কর্তৃপক্ষ শহীদদের প্রতি সম্মান জানান এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই অভিযান চলমান থাকবে—যাতে দেশীয় ও বাইরের কোনো কিছুর দ্বারা পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান শুরুর ফলে সীমান্ত অঞ্চলে সাময়িক স্থিতি ফিরলেও, জঙ্গি-বিদ্রোহ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও থেকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভবিষ্যতেও জোরালো গোয়েন্দা তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তা প্রয়োজন।